বল্টু।Boltu। Bengali story's।। Dhriti Chakraborty
সামনের ফ্ল্যাট এর বেলকনিতে চেয়ে আছে বল্টু, ওই ফ্ল্যাট এ ওরি বয়সী একটা ছেলে থাকে রোজ কিছুনা কিছু ভালো খাবার খায়, আর খাবার পর তার প্যাকেট গুলো ওদের ছোট ঝুপড়ি তার সামনে ফেলে দেয়। খাওয়ারের প্যাকেট গুলো দেখে বল্টুরও ইছে করে খেতে, কিন্তু ওদের বাড়িতে একবেলার খাবার ই জোগাড় হচ্ছে না।
তার ওপর কিছুদিন থেকে কি একটা নতুন রোগ হয়েছে এই শহর টার। যার কারণে তার বাবা, মা দুজনেই আর কাজে যেতে পারছে না। এর মধ্যে কিছু ভালো দাদা, দিদি একদিন এসে ওদের খাবার দিয়ে গিয়েছিল, সেটা দিয়ে 2 দিন চলেছে কিন্তু এখন আর কিছু নেই, ওর বোন টা মাত্র 3 বছর এর, দোকান বন্ধ থাকায় তার খাওয়ার দুধ আনতে পারেনি বাবা। ওর মা যার বাড়িতে কাজ করতো সেই কাকিমা খুব ভালো, এর মধ্যে একদিন এসে ওদের খবর নিয়ে গিয়েছে আর মা কে কিছুটা টাকাও দিয়ে গিয়েছিল। এর পর অনেকদিন কেটে গেল বল্টু এখন একটা অনাথ আশ্রম এ থাকে, ওর বাব, মা দুজনেই ওই নতুন আসা রোগটায় মরা গেল, ও তো শেষ অবধি তাদের মুখ টাও দেখতে পায়নি। ওর বোনটাও যে তার 3 দিন পর না খেতে পেয়ে মরা গিয়েছে। যেদিন ওর বোন মারা যায়, সেদিন সন্ধে তে ও ওর বোনকে নিয়ে বেরিয়ে ছিলো খাওয়ার এর খোঁজে, সেখানে কিছু পুলিশ ওকে রাস্তায় একা ঘুরতে দেখে, ওকে আর ওর বোনকে নিজেদের সাথে থানায় নিয়ে যায়, এবং ওকে একটা গরম চা আর এক প্যাকেট বিস্কুট খেতে দেয়।
ওরাই ওর বোন কে একটা হসপিটাল এ ভর্তি করে, কিন্তু ওর বোনকে বাঁচানো যায়নি। এর পর ওই পুলিশ গুলোই ওকে এই অনাথ আশ্রম এ নিয়ে আসে, এখানে ও রোজ খেতে পায়...
আগের মতো না খেয়ে থাকতে হচ্ছে না, শুধু মনটা কেঁদে ওঠে বাবা, মা, আর ওর ছোটো বোনটার জন্য।।।
__________________________________
এটা শুধু একটা গল্পঃ নয়, এটা হয়তো এই লকডাউন এ আমাদের অজান্তে ঘটে যাওয়া ঘটনার একটা, গল্পঃ রূপ। তাই সবাই কে একটা কথাই বলবো যদি আপনাদের বাড়ির সামনে, বা আশেপাশে এমন কোনো বাড়ি থাকে যাদের সাহায্যের প্রয়োজন তাহলে তাদেরকে সাহায্য করুন, তাহলে হয়তো কোনো বল্টু তার পরিবার কে হারাবে না।।
©Dhriti Chakraborty

Osadharon
ReplyDelete